প্রচ্ছন্ন রূঢ়তা

কোনো কোনো কথা জন্মান্তরের দাগের মত লেগে যায়
কোনো কোনো গরল অমৃতের মুখোশে হত্যার সনদ পায়!
জানা কথা – যাবতীয় তির বোঝেই না লক্ষ্যের চাপা ক্ষত
কী আসে যায় যদিবা অপ্রস্তুতে হয় আহত কিংবা নিহত!

কেউ কেউ অহেতুক রূঢ়তায় খুঁজে আত্মপ্রসাদ
আঘাতে আঘাতে ব্যথিত বুক – নিষণ্ণ নাভিশ্বাস।
কারো কারো দেখার চোখ থেকেও নেই –
শুধুই ব্যবচ্ছিন্ন আঁধার – অসংবেদি রাশি রাশি।

কারো ক্রুর হাসি সাদা চোখে তাচ্ছিল্যেরও কিছু বেশি
কারো বুকে স্রেফ বিঁধে যায় অফেরতা কথামালা
বোঝে না হায়, কারো স্বভিমান পায় নির্দয় ফাঁসি!

কোনো কোনো কথার ছাপ নির্মোচ্য পদচিহ্ণ রেখে যায়।
থেকে থেকে জাগে ক্ষরণকাল – আঘাতে দুর্মর!
কোনো কোনো বিষাদ নিশাতি উল্লাসে
ফিরে ফিরেই ভাঙ্গে বুকের পাঁজর।

—————————————
শব্দার্থঃ
নিষণ্ণঃ অবস্থিত
ব্যবচ্ছিন্নঃ কাটা-ছেঁড়া করা হয়েছে এমন।
অসংবেদিঃ সংবেদনশীল নয় এমন।
নির্মোচ্যঃ মোছার অযোগ্য।
দুর্মরঃ কিছুতেই মত বদলায় না এমন।
নিশাতঃ ধারালো, তীক্ষ্ণ অর্থে।

একটা রিমোট গাড়ির বেদনা

মনে পড়ে বহুদিন আগে
একটা রিমোট কন্ট্রোলড্‌ গাড়ির জন্য
কত কান্নাটাই না কেঁদেছি।
মনে পড়ে মিলিদের দোতলায়,
মিলনের উদ্ধত মুখ।
ধরে রেখেছে একটা লাল গাড়ি –
কালো ডোরায় পাশ কাটা।
আর আত্মরম্ভিতায় স্ফীত বুক!
মনে পড়ে, সব মনে পড়ে
একটা ঝা চকচকে চার চাকার লোভ…
পাঠিয়েছে তার কাকা
সুদূর আমেরিকায় যার নিত্য থাকা।
মনে পড়ে ছোট্ট বুকে অপ্রাপ্তির দাবানল ক্ষোভ,
মিলিদের করুণা মিশ্রিত হাসি –
যেন ধন্য করেছে চাখতে দিয়ে
আরাধ্যের সুখ – রাশি রাশি!

মনে পড়ে মাকে কত জ্বালিয়েছি।
শপথ করেছি সুবোধের অলীক অসম্ভব মন্ত্রে!
ভালো হয়ে যাবো মা, একটুও দুষ্টুমি করবো না।
কিনে দেবে একখানা রিমোট গাড়ি?

আজ মনে পড়ে, খুব মনে পড়ে…
হঠাতই যেন বুঝে যাই কতকাল আগের
মায়ের অসহায় মুখ, তাতে বেদনার আঁকিবুকি!
অবুঝ শিশুর কাতর চাহনি…
বুঝবে সে কীসে? নিত্য টানাপোড়ার
অকথ্য দর কষাকষি!

মনে পড়ে কতকাল আগে
একটা অধরার জন্য কত কেঁদেছি।
আজও তাই আনমনে হেঁটে যাই খেলনার ভূবনে।
রিমোট গাড়ির পাশে এখনো চাই জুলজুলে চোখে।
দাঁড়িয়ে থাকে সময় অবধূত ঔদাসীন্যে,
আর আমার আহত শৈশব।
এখনো সুযোগ পেলেই সেটি
হ্যাংলার মত বিমুগ্ধ হারাতে চায়…

একটা রিমোট গাড়ির বেদনা
এ জীবনে যে ভুলবার নয়!!

কেন?

মানুষ এতো বোকাও হয়!
অধরা কে ধরায় মিশিয়ে
স্বপ্ন-বাসরে আনমন ডুবে রয়!

মানুষ এতো অবোধও হয়!
অপ্রাপ্তির ধ্রুবত্ব জেনেও
কোন সে মরীচিকার মায়ায়
পৌনঃপুনিক পথ হারায়!

মানুষ এতো নির্লজ্জও হয়!
বাসনার কফিনে গজাল ঠুকেও
আবার চেয়ে বসে
স্মৃতি জাগানিয়া প্রথম চাওয়ার
উত্তাল প্রহর…

মানুষ কখন এতো খেলো হয়ে যায়?
দূরে চলে যাবো-শতবার ভেবেও
কাছে পাবার সঙ্গোপন বাসনায়
প্রতিজ্ঞার বজ্রমুঠি,
বাড়ানো হাতের অদম্য মুগ্ধতায়
নিঃশর্তে শিথিল হয়!

মন কেনো এতো অবুঝ হয়
বুঝেও বোঝে না প্রত্যাখানের প্রচ্ছন্ন বিদ্রূপে।
দীর্ঘশ্বাসের মরা কটাল,
মায়াবী চাঁদের আরাধ্য ছায়া খুঁজে ফেরে
আহত জ্যোছনার সঙ্গীন ডানায়।
তবুও হায়! প্রলুব্ধ এ মন
সতত বদলানো তোমার স্বরূপে!

অনিকেত

আমি তোমাদেরই একজন। মিশে থাকি তোমাদের
হাসি-কান্না, দুঃখ-অভিমানে, এবং শোরগোলে।
কিংবা হয়তো আমি তোমাদের কেউ নই; ছিলামই না কখনো!
থাকিনি কখনো তোমাদের আটপৌরে জীবনে – স্বাভাবিক ডামাডোলে।
আমি অদৃশ্য, অস্পৃশ্য – ধরাছোঁয়ার বাইরে। কখনো আসিনি
তোমাদের অমলিন স্পন্দিত লাইম-লাইটে! কী আর হবে এসে?
কিংবা হয়তো মিশে গেছি তোমাদের আত্মায়, বোধের নিগূঢ় মূলে
তোমাদের অজানিতে, বন্ধুতার নিরুচ্চার আপন পাকচক্রে।
আমি আসলেই জানি না আমি কে? কে আমি? অথবা, কে তোমরা?
কুহক এ জীবন, বন্ধনের লুব্ধক স্বপ্নে আমূল বিভোর
অথচ জানে না কোথায় পথের শুরু –
কোথায় জমেছিলো অযাচ্য পথশ্রমের নিদারুণ হঠকারি ধুলো!
আমি তোমাদের হয়েও কেউ নই – নেই আমার কোনো ঠিকানা!
যাপিত জীবন চলছে এক মিছে সংসক্তির ছন্দে – হয়তো এটাই দস্তুর।
আমি উদাসীন, আমার নেই কোনো বাঁধনের জানা সীমানা।
আমি বেভুল পথিক। জানি না তবু কেন পথের জনারণ্যে
সুচিসম ভালোবাসাগুলো নেই কুড়িয়ে – আপ্লুত আবেগে!
আমি দ্বিধান্বিত ব্যাকুল, তোমাদের ভালোবাসায় কেন
বারে বারে, কারণে অকারণে ভাসে বুকের দীর্ঘশ্বাসি দু’কুল?
আমি উদাসীন, আমি তো কারুর নই, এ ভালোবাসা নিতান্ত অনভিপ্রেত!
জেনেও কেন ভুলে যাইঃ আমি উদাসীন – যাবজ্জীবনের অনিকেত!

তুমি আসবে বলে..

তুমি আসবে বলে
ভালোবাসাহীনতায় অনাথ পাখিরা
আবার বুঝি মেলেছে ডানা
বঞ্চনার পিঙ্গল আকাশে।
তুমি আসবে বলে
সুর-বিস্মৃত পাথর এ হৃদয়ে
আবার জমেছে গুঞ্জন;
অজানিতে বুঝি গুনগুনায়
ছন্দ-হীনতায় মগ্ন ব্যাকুল এ মন।
আমার এ জগদ্দল মৌনতা
তুমি ভাংবে বলে অনুভবি,
ভাবনার অতলে ঠিকানা হারালো
উদাসীনতার ক্লেশকর প্রত্যয়!
তুমি আবার ফিরবে বলে
নিদাঘের রং বুঝি বদলে যায়!
বুকের তপ্ত হাহাকারে মেশে
ছায়া সুশীতল, বারিময় অর্চনা।
তুমি আবার আসবে বলে
প্রতীক্ষায় ক্লিষ্ট আমার এই আমি
হৃদয়ের শব্দহীন ক্রুর জোছনায়
প্রেমময় মেঘের আড়াল খুঁজে যায়।

আক্ষেপ – এক রূপোপজীবিনীর জন্য!

সুন্দরীতমা, তোমায় দেখলে আমার বড়ো আক্ষেপ হয়।
অস্ফুটে বলিঃ সুন্দরের কী নিদারুণ অপচয়!
তোমার নিঁখুত কাটা চিবুকের খাঁজে যখন খেলে যায়
জমকালো বাণিজ্যের বেলাজ দ্যুতি,
কাতর হৃদয়ে ভাবিঃ স্বর্গীয় চারুকলার কী ভয়ানক বিচ্যুতি!
তোমার হাসিতে মুক্তা ঝরে,
সূচ্যগ্র নাকের চূড়ায় নিত্য খেলে স্রষ্টার অহমিকা!
অথচ তুমি জানোই না,
ভোমরার লাম্পট্যে সদা নিবেদিতা…
আকর্ষণেই মত্ত স্থূল দেহ-পঞ্জিকা!

সুন্দরীতমা, তোমায় তবু নিষিদ্ধ আবেগে ছুঁয়ে ফেলি।
পঙ্কিল জেনেও চরণ ডুবাই।
পাপ-পূন্যের একাকারি জলে বেভুল আমি খেই হারাই!
তোমার ক্রীড়নক চোখে হারাতে হারাতে ভাবিঃ
কী সহজে অলির মৃত্যু লিখো অনর্গল…
যদি সত্যিকারের মরণ দিতে পারতে?
পারতে যদি হৃদয় খুড়তে…
ধরতে যদি অধরে উষ্ণতম অকপট আকুলি
বুঝতে যদি প্রেমের সরলতম মিঠে বুলি!

তোমায় ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে নিজের কাছেই নিত্য ভাংচুর হই।
অক্ষম রাগে ভেসে যাই –
আহা, সুন্দরের কী নিদারুণ অপমান!

পারতাম যদি ছুঁতে অতলান্তের পরম নিষ্পাপ মনটিকে,
যেটি কোনো কোনো ব্যাকুল সাঁঝে কি
একটিবারও কেঁদে ওঠে না!
নারীত্বের প্রবল অপমান কি কাঁপিয়ে দেয় না
বিকিকিনির লাল-নীল আদিম সামিয়ানা?

সুন্দরীতমা, তোমায় যখনি দেখি অভিশাপ দেই নিজেকে,
অভিশাপ দেই স্বীয়-ভীরুতায়, যুগান্তরের নির্জলা কাপুরুষত্বে।
জানি, কখনই বলা হবে না, বাড়িয়ে দেবো না হাত।
বলব নাঃ রূপোপজীবিনী, এসো তোমায় আলো দেখাই!
জগতের অন্যতম নিকৃষ্ট পাপে বড়ো আক্ষেপে বলিঃ
মনুষ্যত্বের কী নিদারুণ অপচয়!!

তুমি বিনা

তুমি বিনা লাগে না কিছুতে মন
তুমিহীনা সব তামাদি
শুধু নির্জলা বিকর্ষণ!
যখন আমি পাই না কোথাও তোমায়,
গেঁথে চলো মৌনি-মালা, তখন
কিছুই হায়, এ মন না ভোলায়!
তুমি বিনা রঙ ফোটেনা আকাশে
তুমিহীনা গোলমাল পাখি-ঠোঁটে
তুমি বিনা উদোম বিতৃষ্ণা হৃদ-সকাশে!
তখনো আমি খুঁজি তারে বারে বারে
কেবলি চাই উৎকন্ঠা ভরে
যদি আসো মিছে অভিমান ভুলে?
তুমি বিনা ভালো লাগে না জীবন
তুমিহীনা সব বিবাগী
শুধু নির্মায়িক জ্বালাতন!

ইশ্বর, আমার কিছু কথা শুনবে কি?

ইশ্বর, আমার যত শূন্যতা গলিয়ে
একটা চাঁদ গড়ে দেবে?
যে চাঁদের অগোছালো জোছনায়
মিশে থাকবে আমার হাহাকার!

ইশ্বর, আমার যত ভালোমানুষিতার বিনিময়ে
এটুকু কি করবে?
ঝুলিয়ে দেবে সে চাঁদ
বৃষ্টি ধোয়া ব্যথা-গন্ধী রাতে
তার আয়ত আঁখির মাপে?
হয়তো সে তাকিয়েই স্তব্ধ হয়ে যাবে..
হাজার রাত্রির দীর্ঘশ্বাস ঘন হয়ে বসবে তার বুকে।

ইশ্বর, এতটুকু কি পারবে না?
বিরহ জ্বালা মিশিয়ে দেবে সে চাঁদনীর মায়ায়।
আর আমার বিক্ষত হৃদয় বসিয়ে দেবে চাঁদের মুখে!
হয়তো সে আঁখি মেলেই অশ্রুসজল হবে।
আমার জন্য কোন্‌ অজানা কোণে অনাবিষ্কৃত
ভালোবাসাটুকু উড়িয়ে দেবে বিষন্ন বাতাসে।

ইশ্বর, পারো কি এতটুকু সহৃদয় হতে
আমার বুভুক্ষু হৃদয়ের প্রতীক্ষিত চুম্বন
অনবধানে এঁকে দাও ওর ওষ্ঠের আঙ্গিনায়।

ইশ্বর, আমার যত অপ্রাপ্তি জমিয়ে
একটা চাঁদ গড়ে দাও না?
যে চাঁদ অনাদিকাল ওকে কাঁদিয়ে যাবে
নিভৃতে, আমার কথা ভেবে ভেবে।

ফিরে যাই ছোট ছোট উপেক্ষাগুলোর মাঝে…

জানো কি? বহুদিন হলো
আমি অনেক কিছুই দেখি নি!
কী এক ভীষণ ব্যস্ততায় ছোটখাট
জানাগুলিকে আদৌ চিনি নি!
প্রতিদিন হেঁটে যাই যে পথে,
সেই পথের শেষেই যে একটা
লাল ডাকবাক্স আছে, মাথায় তার কালো টুপি।
জানো, খেয়ালই করি নি!
আরো ধর, বড় রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে
একাকী ধূসর একটা টেলিফোন বুথ,
লাল তার ছাউনি…
জানো, আমার কভু সেখানে যাওয়াই হয় নি!
কিংবা পাশেই ঘুরে গেছে যে গলি,
কখনো ভাবি নি একটু পা বাড়িয়ে দেখি…
কিংবা মোড়ের মাথায় ফ্রাইড চিকেনের
সেই মেয়েটি
বড় বড় চোখ, নত মুখের ঈষৎ প্রশ্রয়ি হাসি…
এমন কিছু হয়তো নয়…
তবুও তাকে অজানা বিদ্বেষে বরাবর
এড়িয়েই চলেছি।

জানো, আমি অনেক কিছুই দেখেও দেখি নি।
ফাঁকা চোখে নিরন্তর পাশ কেটে গিয়েছি।
কী ভীষণ স্বার্থপরের মত আমি কেবল
কেবল বড় কিছুর পিছে পিছেই ছুটেছি!
কখনো নেই নি টেনে ক্ষুদ্রত্বের অদ্ভুত ঐশ্বর্য!
অথচ কে না জানে, এইসব আপাত
অবহেলার বস্তুই গড়ে সত্তার প্রকৃত স্বত্ব…
জগতে অভিজ্ঞতাই যে অস্তিত্ব!

তাই আজ বহুদিন পর হেঁটে গেলাম ঘুরপথে
অলি-গলি তস্য গলি আজ দেখেছে
বেভুল আমাকে।
গম্ভীর ডাকবাক্সের সামনে গিয়ে মাথা নেড়েছি।
বলেছি – ভালো আছো বন্ধু?
লাল বুথে সেঁধিয়ে গিয়ে নির্বিবাদে
কয়েন ফেলে অচেনায় ডায়াল করেছি।
আর আনোভার সামনে গিয়ে বহুদিন বাদে
চোখ ফিরিয়ে নেই নি!
হাসিমুখে বলেছি – কেমন আছো? ক’টা উইংস দেবে?

জানো, আজ বহুদিন পর যত ক্ষুদ্র উপেক্ষাগুলিকে
হেঁটে হেঁটে উদাসীন,
জানতে চেয়েছি।
কেউ জানে না, শুধু তৃপ্ত এ মন জানে
কী অদ্ভুত অপার আনন্দে আমি ভেসেছি!
উপেক্ষার ব্রাত্যজনকে বুকে তুলে
আমি ক’ফোটা মহার্ঘ্যের
অনুপম জল ফেলেছি!

একটু কান্নার জন্য

একটু কান্নার জন্য করি আকুতি
যদি ঝরতো জল অঝোরে এক নদী,
মন হালকা হতো।
দেখাতে পারতাম যদি
বুকের চাপা কষ্টগুলো!
কেমন মুখ বুজে সই
যত আঘাত – সংহারি…
মন হালকা হতো।
ভালোবাসতে পারতাম যদি
নিঃশেষ উপেক্ষা,
দিন শেষের মন উথালি-পাথালি…
মন হালকা হতো।
আঁকতে পারতাম যদি
বিস্মৃতির ধোঁয়াশা!
যন্ত্রণার নীলে মিশতো
উদাসীনের ধূসরতা…
মন হালকা হতো।
যদি কাঁদতে পারতাম
এক বুক হাপুস নয়ন –
সমর্পনে নির্বাপন অন্তর্দহন…
মন হালকা হতো!

কিন্তু এ চোখ অশ্রুবিহীন
আঘাতে আঘাতে পাথর – যেন অনুভূতিহীন!
বুক ফাটে তবু চোখ ফাটে না
ভরা বেদনায় রুদ্ধ এ কণ্ঠ
তবুও জল গড়ায় না!

আহ, কাঁদতে পারতাম যদি
দু’কূল ছাপাতো মৌনতায় স্তব্ধ
পাথরের হৃদয় নদী…
মন হালকা হতো!