আক্ষেপ – এক রূপোপজীবিনীর জন্য!

সুন্দরীতমা, তোমায় দেখলে আমার বড়ো আক্ষেপ হয়।
অস্ফুটে বলিঃ সুন্দরের কী নিদারুণ অপচয়!
তোমার নিঁখুত কাটা চিবুকের খাঁজে যখন খেলে যায়
জমকালো বাণিজ্যের বেলাজ দ্যুতি,
কাতর হৃদয়ে ভাবিঃ স্বর্গীয় চারুকলার কী ভয়ানক বিচ্যুতি!
তোমার হাসিতে মুক্তা ঝরে,
সূচ্যগ্র নাকের চূড়ায় নিত্য খেলে স্রষ্টার অহমিকা!
অথচ তুমি জানোই না,
ভোমরার লাম্পট্যে সদা নিবেদিতা…
আকর্ষণেই মত্ত স্থূল দেহ-পঞ্জিকা!

সুন্দরীতমা, তোমায় তবু নিষিদ্ধ আবেগে ছুঁয়ে ফেলি।
পঙ্কিল জেনেও চরণ ডুবাই।
পাপ-পূন্যের একাকারি জলে বেভুল আমি খেই হারাই!
তোমার ক্রীড়নক চোখে হারাতে হারাতে ভাবিঃ
কী সহজে অলির মৃত্যু লিখো অনর্গল…
যদি সত্যিকারের মরণ দিতে পারতে?
পারতে যদি হৃদয় খুড়তে…
ধরতে যদি অধরে উষ্ণতম অকপট আকুলি
বুঝতে যদি প্রেমের সরলতম মিঠে বুলি!

তোমায় ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে নিজের কাছেই নিত্য ভাংচুর হই।
অক্ষম রাগে ভেসে যাই –
আহা, সুন্দরের কী নিদারুণ অপমান!

পারতাম যদি ছুঁতে অতলান্তের পরম নিষ্পাপ মনটিকে,
যেটি কোনো কোনো ব্যাকুল সাঁঝে কি
একটিবারও কেঁদে ওঠে না!
নারীত্বের প্রবল অপমান কি কাঁপিয়ে দেয় না
বিকিকিনির লাল-নীল আদিম সামিয়ানা?

সুন্দরীতমা, তোমায় যখনি দেখি অভিশাপ দেই নিজেকে,
অভিশাপ দেই স্বীয়-ভীরুতায়, যুগান্তরের নির্জলা কাপুরুষত্বে।
জানি, কখনই বলা হবে না, বাড়িয়ে দেবো না হাত।
বলব নাঃ রূপোপজীবিনী, এসো তোমায় আলো দেখাই!
জগতের অন্যতম নিকৃষ্ট পাপে বড়ো আক্ষেপে বলিঃ
মনুষ্যত্বের কী নিদারুণ অপচয়!!