একটি মিছে প্রতিশ্রুতি এবং প্রতীক্ষা

সে আসবে – কথা ছিলো।
সেদিন রোদেলা আকাশের যুবতী বুকে
অপেক্ষার প্রগাঢ় স্পন্দন ছিলো!
সব ঠিকই ছিলো, উন্মুখ উছল হাওয়া
পাটভাঙ্গা শাড়ির আনকোরা মিঠে গন্ধ মেখেছিলো।
কথা ছিলো – সে আসবে, ভালোবাসবে
আহা, ভালোবাসবে।

অকস্মাৎ প্রতিশ্রুতিরা যেমন হয় –
অপেক্ষার আর সাধারণ ক্ষণগুলোও
অসহ্যতম অধীরতায় গভীর মত্ত রয়।
ভাবনার সাথী কাচের জানালাটাও কি উঁকি মারে দূরে?
পথের সংবেদী ধূলো যেন ধন্য হয়
কখন তার মৃদু সলজ্জ পদভারে?

কথা ছিলো – সে আসবে। কতদিন পর…সব ভুলে…
ঘটমান বাস্তবও কেমন অবাস্তবের ভ্রূকুটি পরে থাকে।
ঘটমানতার আর দোষ কী – নিয়তির রুঢ়তা অবিশ্বাস্য ভারী।
জীবনের কতটা পথ গেলো একাকী – নিঃসঙ্গতায় অযাচ্য মাখামাখি!

কথা দিয়েছিলো – অভিমানী বর্ণেরা আবার ফিরবে
সাদা-কালো এ বুকের অনুতপ্ত নিঃস্ব পটে।
অযুত রজনীর অমোচ্য তৃষ্ণার্ত প্রহর,
ভেবে রেখেছে ফিরলে এবার সেই ক’বেকার স্বাদিত অধর,
এঁকে দেবে পরিণত ভালোবাসা –
ক্ষুধিত নয়নে বেঁচে থাকার শেষ আশা!

কথা ছিলো – সে আসবে, আবার ভালোবাসবে।
মধ্য শীতের রিক্ত বেলায় তাইতো অসময়ের ফাগুন ঝরেছিলো
ফুলভারে নুয়ে ছিলো রক্তাভ চেরি…
ও আসবে বলে আপ্লুত ছিলো বিভোর প্রকৃতি
উদাসীনতা পেয়েছিলো ছুটি; ব্যাকুলতা চাইছিলো নতুন দ্যুতি।

ও আসবে বলে সব ফেলে উতকর্ণ হয়ে বসে ছিলাম।
কিন্তু সে আসে নি!